ঔষধ, খাদ্য ও মশলা হিসেবে আদার তেল নিষ্কাশন করুন।
চেহারা: ফ্যাকাশে হলুদ থেকে হলুদ তরল, পুরোনো হলে এর সান্দ্রতা বৃদ্ধি পায় এবং এতে আদার বৈশিষ্ট্যপূর্ণ গন্ধ থাকে।
নিষ্কাশন পদ্ধতি: আদার (Zingiber officinalis) নলাকার কাণ্ড শুকিয়ে, গুঁড়ো করে এবং বাষ্প পাতন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এটি সংগ্রহ করা হয়। পাতনের সময়কাল ১৬ থেকে ২০ ঘণ্টা এবং এর ফলন ০.২৫% থেকে ১.২%।
এটি কোল্ড গ্রাইন্ডিং বা কোল্ড প্রেসিং পদ্ধতিতেও নিষ্কাশন করা হয় এবং এর গুণমান ডিস্টিলড পণ্যের চেয়ে ভালো। অথবা সুপারক্রিটিক্যাল কার্বন ডাই অক্সাইড দিয়ে নিষ্কাশন করা হলে, এর গুণমান সর্বোত্তম হয়।
প্রধান উপাদানসমূহ: জিঞ্জারিন, শোগাওল, জিঞ্জারোল, জিঞ্জারোন, ইত্যাদি।
মানবদেহে গ্রহণের পর এটি ঘাম তৈরি করে এবং ত্বককে আরাম দেয়, এবং সর্দি-কাশির উপর এর একটি নির্দিষ্ট নিরাময়কারী প্রভাব রয়েছে। এছাড়াও, আদার তেল ক্ষুধা বাড়াতে, অন্ত্রে পাচক রসের নিঃসরণ ত্বরান্বিত করতে এবং ক্ষুধামান্দ্য ও শুষ্ক মলের উন্নতি ঘটাতে পারে। এটি ভিটামিন ই এবং ভিটামিন বি কমপ্লেক্সেও সমৃদ্ধ, যা কেবল স্নায়ুর পুষ্টিই জোগায় না, বরং সৌন্দর্য বৃদ্ধি এবং বলিরেখা দূর করার ক্ষেত্রেও কার্যকর। তবে, অ্যালার্জি প্রতিরোধের জন্য এটি অতিরিক্ত পরিমাণে গ্রহণ করার পরামর্শ দেওয়া হয় না।
শরীর স্নান: শীতকালে, এক বাথটাব উষ্ণ জলে ৫-৮ ফোঁটা আদার তেল মিশিয়ে স্নান করলে তা রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে, সারা শরীরকে শীতল ও উষ্ণ করতে এবং সর্দি-কাশির উপশম করতে পারে।
শরীর মালিশ: শরীর মালিশের জন্য ৫-৭ ফোঁটা আদার তেল ব্যবহার করুন, যা পুরো শরীরের মানসিক কলাকে সক্রিয় করে, সারা শরীরকে উষ্ণ করে, বায়ু দূর করে, সর্দি-কাশির চিকিৎসা করে এবং পেশীর ব্যথা উপশম করে।
পায়ের স্নান: এক পাত্র উষ্ণ জলে ৩-৫ ফোঁটা আদার তেল মিশিয়ে পা ভিজিয়ে রাখলে তা ঠান্ডা হাত-পা ও অতিরিক্ত ঘামের চিকিৎসা করতে পারে এবং পায়ের ছত্রাক সংক্রমণের (টিনিয়া পেডিস) উপরও এর একটি নির্দিষ্ট প্রভাব রয়েছে। আদার তেল দিয়ে পায়ে মালিশ করলে তা মনকে উষ্ণ করে, মানুষকে অনুপ্রাণিত করে, স্নায়ু দুর্বলতা, মানসিক ক্লান্তি, মাথা ঘোরার মতো সমস্যা দূর করে এবং চিন্তাভাবনাকে সক্রিয় করে তোলে। একই সাথে, এটি পায়ের পাতার আকুপয়েন্টগুলিকে উদ্দীপিত করে, বিভিন্ন তন্ত্রের বিপাক ক্রিয়াকে উন্নত করে, যার ফলে মানবদেহ শিথিল হয়, ক্লান্তি দূর হয়, উত্তেজিত স্নায়ু শান্ত ও নিয়ন্ত্রিত হয়, নাড়ীপথের শক্তি ও রক্তের মধ্যে সামঞ্জস্য আসে, ঘুমের মান উন্নত হয় এবং স্বপ্নালুতা ও খুব ভোরে ঘুম ভেঙে যাওয়ার মতো ঘুমের ব্যাধি থেকে মুক্তি মেলে। বিশেষ করে ব্যস্ত ও অতিরিক্ত সময় কাজ করা কর্মীদের জন্য ক্লান্তি দূর করার এই প্রভাব অত্যন্ত কার্যকর।















